Which course is better for madhyamik student.: মাধ্যমিকের পর কোর্সের হাল হদিশ

Which course is better for madhyamik student.: মাধ্যমিকের পর কোর্সের হাল হদিশ

30 May, 2019

মাধ্যমিকের পর

কোর্সের হাল হদিশ 



শিক্ষার অর্থ যত ব্যাপক হোক না কেন, এর নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকবেই –ব্যক্তিসত্তার ক্ষেত্রে সেটা যেন আরও প্রকট। বর্তমান ইঁদুর দৌড়ের বাজারে আকাশের মতো উদার হলে হয়তো একদিন আকাশের নীচে দিনযাপন করতে হবে বা বসে বসে বায়ুর কাছে কর্মী হওয়ার মন্ত্রণা নিলে চিপসের প্যাকেটে হাওয়া ঢুকে তা মিইয়ে যাওয়ার মতো করে কেরিয়ারের বারোটা বেজে যাবে।

এবার কচকচানি ছেড়ে আসল কথায় আসি।কে কী পড়বে অনেকেই তা ঠিক করে নিয়েছে। মাধ্যমিকের আগে থেকেই কোচিং সেন্টার গুলোতে ফাউন্ডেশন কোর্সে নাম লিখিয়েছে সময়ের থেকেও এগিয়ে থাকা aspirant রা, কেউ আবার মাধ্যমিকের পরদিন থেকেই দত্তগিন্নি মা ও হিটলার বাবার চোখরাঙানির ভয়ে বগলে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ বই নিয়ে কোচিং সেন্টার ছুটছে তো কেউ আবার সোনার কাজে কেরল, মুম্বই ইত্যাদি। কারুর আবার বিয়ের তোড়জোড় তো কেউ উদাস নয়নে আমসূত্রে–মানে রেজাল্ট বেরোনোর পর “আচ্ছা সে দেখা যাবে!” 
সত্যিই রেজাল্ট বেরোনোর পর চিত্রনাট্য জমে যায়। এবার আলোচনা করা যায় পরিস্থিতি ও কে কোন লাইনে যাবে।
১. উচ্চমাধ্যমিক :
এক্ষেত্রে নিজের এলেম, সাব্জেক্টে খাটতে পারার মানসিকতা ও সর্বাগ্রে বিষয়ের প্রতি ভালোবাসা দেখে বিষয় ও স্ট্রিম নির্ধারণ করতে হবে। “লোকে কী বলবে!” বা সায়েন্স না নিলে জাত যাবে বা যে বিষয়ই পাইনা কেন “ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া”- এই স্কুলেই ভর্তি হবো এই আবেগ গুলোকে বিসর্জন দিতেই হবে!
A. বিজ্ঞান :
এটা ঠিক যে বিজ্ঞান নিয়ে পড়লে সুযোগ অনেকটা বেড়ে যায় –কিন্তু তারজন্য ভালো করে পড়তে হয়। এক্ষেত্রে পিওর সায়েন্সের ক্ষেত্রে কম্পিউটার না নিয়ে বায়োলজি নেওয়াই শ্রেয়। তাতে কিন্তু কেরিয়ারের সুযোগের বহুমুখী বাণিজ্য বিস্তার সম্ভব। তাছাড়া কম্পিউটার না থাকলেও ভবিষ্যতে কম্পিউটার নিয়ে পড়া যায় কিন্তু বায়োলজি না থাকলে অনেক দরজা মুখের সামনে বন্ধ হয়ে যাবে।যারা জগাখিচুড়ী করবে তারা যদি হোম সায়েন্স বা নউট্রিশন বা বায়ো রাখো, সাথে যেন রসায়নের রস আস্বাদন করতে ভুলো না!
যারা সায়েন্স নিয়ে পড়বে তারা কিন্তু ইলেভেন থেকেই খুব ভালো করে পড়বে এবং কম্পিটিটিভ এক্সামিনেশনের আসল প্রিপারেশন ইলেভেনেই নাও, কারন দ্বাদশে বোর্ডের পরীক্ষার জন্য বেশি আদর আপ্যায়ন তুলে রাখতে হবে। তাছাড়া ক্লাস ইলেভেন ও দ্বাদশে হুড়মুড় করে কিন্তু KVPY হয় এবং তাতে বায়ো থাকে -সেই পরীক্ষাও দাও। সায়েন্সের ক্ষেত্রে “জানেন দাদা আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসেনা”-র থেকে বড় আক্ষেপ বোধ হয় “ফিজিক্সটা ঠিক আসেনা!”আর ভালো ফিজিক্স টিচারেরও খুব “আকাল!” তাই যা ব্যবস্থা তাড়াতাড়ি করতে হবে এবং প্রয়োজনমতন ও সাধ্যমতো ভালো কোচিং সেন্টার পাঠাতে পারেন। মনে রাখবেন সায়েন্সে খুব খারাপ রেজাল্টের সাথে মিডিওকারদেরও কিন্তু খুব চাপ–খুউব চাপ! ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া শিক্ষার্থীদের CBSE বোর্ড প্রেফার করতে বলবো।
তবে এক্ষেত্রে ইকনমিক্স রাখলে ম্যাথে ভালো হতেই হবে।
B. আর্টস:
এক্ষেত্রে সাব্জেক্ট কম্বিনেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখন আর্টস ও বেশ স্কোরিং। চেষ্টা করবে ভূগোল পেতে। নিজেই নোট বানিয়ে নিজেই ভালো করে সময়ের মধ্যে উত্তর লেখা প্র্যাক্টিস করবে প্রথম থেকে।
আর্টস নিয়েও আজকাল অনেক কিছুই করা যায়। দরকার শুধু সঠিক গাইডেন্স,অধ্যবসায় ও সেল্ফ ফোকাস।
C. কমার্স:
এটা কিন্তু একটা দারুণ স্ট্রিম, অনেক উন্নতি করা যায়। তবে ম্যাথে কিন্তু দুর্দান্ত না হলে ভবিষ্যতে CA/ICA আলেয়াই থেকে যাবে!
২. ITI:
মাধ্যমিকের পরই এটা নিয়ে পড়া যায়। এর জন্য পরীক্ষা দিতে হয়ে WBSCVT -এর ব্যবস্থাপনায়। আবার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন নিজেরাই পরীক্ষা নেয় এবং এটা আবাসিক। এক্ষেত্রে ফিটার, বয়লার আর ইলেকট্রিক্যাল ট্রেড বেশ ডিমান্ডিং। তবে ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্টের জন্য কেমিক্যাল ট্রেড টা নেওয়া যেতে পারে। আবার ল্যাটারেল এন্ট্রিতে VOCLET দিয়ে Polytechnic এ ডিপ্লোমাও করা যায়।

৩. Polytechnic :
যদিও মাধ্যমিকের পরই পড়া যায় তবুও উচ্চমাধ্যমিক সায়েন্সের পরই পড়া শ্রেয়। তার কারন:
A. উচ্চমাধ্যমিকে সায়েন্স নিয়ে পড়ে মোটামুটি রেজাল্ট করলেও তাতে কিন্তু উচ্চমাধ্যমিক পড়ার অভিজ্ঞতায় পলিটেকনিক এন্ট্রান্সে ভালো র্যাঙ্ক করা যায়।
B.অনেক PSU সহ সর্বভারতীয় অনেক ক্ষেত্রে আবার উচ্চমাধ্যমিক সায়েন্সের সাথেই কিন্তু ডিপ্লোমা চায়।
ইলেকট্রিক্যাল, সিভিল, কম্পিউটার – এগুলো বেশ ডিমান্ডিং। তবে কেমিক্যালে সুযোগ অনেক বেশি যদি পড়ার এলেম হয়!
মাইনিং,লেদারেও দারুণ সব চাকরী পাওয়া যায়!
#সার্ভেয়ার পড়লে তো Coal India ও তার সিস্টার কোম্পানি, নালকো, ইন্ডিয়ান ব্যুরো অব মাইন্স, ওনজিসি, বিভিন্ন বিদ্যুৎ সংস্থা, সরকারি সার্ভেয়ার পোস্টেও দারুণ সুযোগ। এটা খুব প্রগ্রেসিভ একটা ট্রেড।
চার্জম্যান যার বেসিক -৩৫৪০০/-,তার ন্যূনতম যোগ্যতা কিন্তু ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং!
৪. Apprentice :
এটার জন্য ৫০% করে সিট ট্রেইন্ড অর্থাৎ ITI এবং নন ITI -র জন্য ভাগাভাগি থাকে। রেল, মেট্রোরেল, ডকইয়ার্ড, প্রতিরক্ষা কারখানা, তেল কোম্পানি প্রভৃতি থেকে অ্যাপ্রেন্সিজম করা যায়। স্টাইপেন্ডের সাথেসাথে সবশেষে ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট ও পাওয়া যায়। এটা যেহেতু একটা কাজের অভিজ্ঞতার মতো, তাই ভবিষ্যতে এইসব সংস্থায় এদের কিন্তু প্রাধান্য দেওয়া হয় নিয়োগের ক্ষেত্রে।
৫.প্যারামেডিকেল কোর্স…ভাববেন না বাঁশের চেয়ে কঞ্চির দড়! আসলে গ্রামের দিকের বেড়াতে বাঁশ আর কতটুকু..কঞ্চিরই তো রমরমা!
সরকারি কোর্স গুলিতে যদিও বা জেনপা লাগে এবং উচ্চমাধ্যমিকের সায়েন্স পাশ করতেই হয়! তবু পকেটের রেস্ত চোস্ত হলে,DLMT,DHFM,DOA,DOT, হেলথ ইন্সপেক্টর, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর.. ৩ বছরের প্রভৃতি কোর্স করা যেতেই পারে।
দিনদিন মানুষের অসুস্থতা বাড়তেই থাকবে, মানুষের সংখ্যা বাড়বে.. অতএব এই মেডিক্যাল সহযোগীদের প্রয়োজনও বাড়বে!
৬.স্বল্পমেয়াদী কোর্স…
বর্তমানে কম্পিউটার ছাড়া যেন কোন কাজ অফিসিয়ালি হবেই না! সাথে স্রোতে তাল মেলাতে না পারা!
তাই, DTP,Tally, Internet, Animation, PGDCA, Graphics, Web Security প্রভৃতি ৬/১২ মাসের কোর্স করা যেতে পারে। তবে কোন ফুলটাইম কোর্স পড়তে পড়তে এগুলো করাটাই বুদ্ধিমানের। পকেটের সাথে সার্টিফিকেটে সরকারি মুগুর ছাপের অথেনটিকেশনের জন্য “যুব কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র”গুলোই এক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে সেরা।
৭. রূপসী দোহাই তোমার..
হোক সে লেপন, তবুও রূপ ছড়াবে লাইক ব্যাপন। হোক সে কাটিং, তবুও সেটিংএ খাপে খাপ..! হোক সে ওয়াক্স, দর্শনেই রকস্..!
সে কনে, বর থেকে শুরু করে দাদা-বৌদি -বৌ-কাকী, নেকুপিসির ওটা নাহলে চলে না! সব তীর্থ একবার, ওটা নাকি বারবার!
অতএব, বিউটি ও কসমেটোলজি সাথে জুয়েলারি ও ফ্যাশন ডিজাইনিংএর কিছু কোর্স করে নিলে অন্ততপক্ষে বসে থাকতে হয়না!
এক্ষেত্রে অন্যের হয়ে কাজ করা ছাড়াও, নিজেই ব্যবসা শুরু করা যায়। সহজেই সরকারী লোন পাওয়া সম্ভব।
তাই মিত্রোঁ থুড়ি ভাই ও বোনেরা ভেবে, চিন্তা করে, নিজের সাধ ও সাধ্যের মেলবন্ধন ঘটিয়ে আকাশের আয়তন বেঁধে দিয়ে আকাশ ছুঁতে হবে। আর কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।
ডিয়ার মেসোমশাই ও মাসিমা, সন্তানের ইচ্ছের মর্যাদা না দিয়ে কোনকিছুই জোর করে চাপিয়ে দিয়ে ইচ্ছেদের মেরে ফেলবেন না।
©প্রদীপ শাসমল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *